0
অনেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করেন। তবে সবাই ভাল ফটোগ্রাফার হতে পারেন না। পরিশ্রম মেধা আর অনুশীলনের মাধ্যমেই ফটোগ্রাফারকে তার লক্ষে পৌছাতে হয়। আজকে আমি নতুন একটি ক্যামেরা কেনার আগে আপনাকে যেসব ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আমি তার কিছু টিপস দিতে চেষ্টা করব। সংগে ক্যামেরার পরিচর্চা নিয়েইও আলোচনা করব। পছন্দ করার মতো বাজারে অনেক ব্রাণ্ডের ক্যামেরা পাবেন, আলাদা আলাদা ফিচারযুক্ত ক্যামেরা পাবেন। আপনি পেশাদার ফটোগ্রাফি বা পারিবারিক ছবি তোলার জন্যই হোক, ভালো মানের ছবি তোলার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সবচেয়ে উত্তম। সহজ করে বললে ডিএসএলআর ক্যামেরায় আপনি আপনার স্বাধীন সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে পারবেন। আবার প্রশ্ন করতে পারেন ডিএসএলআর ক্যামেরা কী? ডিএসএলআর বা ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স (digital single lens reflex) ক্যামেরা, লেন্সের মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আলো প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে আপনি যা দেখছেন ঠিক একই রকম ছবি পাওয়া যায়। ডিএসএলআর ক্যামেরার ছবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং চমৎকার রঙ বিশিষ্ট। এগুলোতে প্রাণবন্ত ছবি উঠে এবং সূক্ষ বিবরণসহ ছবির জন্য এগুলো বেশ ভালো। পোট্রেট ফটোগ্রাফির জন্যও ডিএসএলআর বেশ ভালো, কারণ এগুলো চোখের রং, মুখের রেখা, গায়ের রং, এবং চুলের বিন্যাসের মত বিষয়গুলো খুব সহজেই ধারণ করতে পারে। ভালো মানসম্পন্ন ছবি তোলার জন্য এগুলোর যে কোনো একটি কিনতে পারেন। ডিএসএলআর জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় দু’টি ব্র্যান্ড হচ্ছে ক্যানন (Canon) ও নিকন (Nikon)। এই দুটি ব্র্যান্ডের রয়েছে অসংখ্য লেন্সের সমাহার । ডিএসএলআর কিনতে গেলে প্রধান বিষয় হয়ে দাড়ায় আপনার অর্থনৈতিক সামর্থ। বাজেট নির্বাচন করার জন্য আপনার চাহিদাটা আগে ভেবে নিন। কি ধরণের কাজ আপনি করতে চান? পেশাদার ফটোগ্রাফার হতে হলে বাজেট ৫০ হাজারের উপরে রাখাটা ভাল। আর সৗখিন পারিবারিক ক্যামেরা হলে ৫০ হাজারের নিচেই পাবেন ক্যামেরা। বেসিক কিছু ক্যামেরা মডেল “কিট” (“kit”) হিসেবে পাওয়া যায় যাতে ক্যামেরা বডি ও লেন্স থাকে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধু ক্যামেরা বডি কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ক্যামেরা কেনার সময় লেন্সের দামও মাথায় রাখতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেন্সের দাম বডির চেয়ে বেশী। তবে সুযোগ মত লেন্স বদলে নিতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো হাতছাড়া করতে না চাইলে ব্যাটারির মতোই যথেষ্ট মেমরি থাকা প্রয়োজন। কিছু কিছু ডিএসএলআর ক্যামেরার দুইটি মেমরি কার্ডের স্লট থাকে, যাতে একটি পূর্ণ হয়ে গেলে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ মেমরি কার্ড ব্যাবহার করা শুরু করবে। এটা বিভিন্ন শুটিং ইভেন্ট ও ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফির জন্য ভালো। অতিরিক্ত মেমরি কার্ড থাকলে আপনার অসাধারণ কোনো মুহূর্ত আর হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। ক্যামেরা ক্রয় করার পরে আপনাকে মেমরি কার্ড, লেন্সের ফ্লিটার, স্কিন প্রটেকটর, বহনের জন্য ব্যাগ কিনতে হবে। মূল ক্যামেরার বাজেটের বাইরে আপনাকে আর হাজার তিনেক টাকা যুক্ত রাখতে হবে এই জন্য। ভাল ক্যামেরা খুজতে হলে আপনাকে সময় নিয়ে ক্যামেরার ফিচার গুলি পড়তে হবে। নতুন বা পুরাতন যাই কিনুন সেটি আগে চালিয়ে বুঝে নিন আপনার কেমন লাগছে। ক্যামেরা খুঁজলে চাহিদা অনুযায়ী আপনি অনেক ক্যামেরা পাবেন। আপনার জন্য সেরা মডেল হচ্ছে সেটি, যেটি আপনার শুটিং-এর ধরণ ও জীবনযাত্রার সাথে মানানসই। আপনি বিয়ের অনুষ্ঠান বা পরিবারের ছবি, যাই তুলুন না কেনো, আপনার জন্য কোনো না কোনো ক্যামেরা রয়েছে। সাধারণভাবে ব্যবহারের জন্য আপনার এন্ট্রি লেভেল মডেল দরকার, এক্ষেত্রে আপনি সনি ডিএসএলআর (Sony DSLR) ব্যবহার করতে পারেন। পেশাদার ছবির জন্য, ক্যানন ডিএসএলআর (Canon DSLR) ভালো। পেনটেক্স (Pentax), অলিম্পাস (Olympus) এবং ফুজি (Fuji) ব্র্যান্ডেরও অনেক মডেল রয়েছে, যেগুলোর সেটিংসে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। আপনার জন্য সঠিক ক্যামেরাটি কিনতে সেরা ডিএসএলআর রিভিউগুলো পড়ুন। ডিজিটাল ক্যামেরার কথা এলেই সবার আগে প্রশ্ন আসে ক্যামেরাটি কত মেগা পিক্সেলের। পিক্সেলের হিসাব করে ব্যবহারকারী তার ডিজিটাল ক্যামেরার মান যাচাই করতে পারে। পিক্সেল শব্দটির অর্থ হলো পিকচার এলিমেন্ট বা ছবির অংশবিশেষ। পিক্স শব্দটি এসেছে ‘পিকচার’ থেকে এবং এল শব্দটি এসেছে ‘এলিমেন্ট’ থেকে। এই দুয়ে মিলে পিক্সেল। ডিজিটাল ছবির ক্ষেত্রে পিক্সেল ছবিটির সবচেয়ে ছোট অংশ। এ ছোট অংশ মিলেই ছবিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। একেকটি পিক্সেল পূর্ণাঙ্গ ছবিকে আকার দেয়, তাই পিক্সেল যত বেশি হয় ছবির মান তত ভালো হয়। ডিজিটাল ছবিতে পিক্সেল দ্বিমাত্রিক গ্রিড আকারে সাজানো থাকে। একটি পিক্সেল খুব ছোট, তাই এটি খালি চোখে দেখা যায় না। তবে ছবিকে জুম করা হলে পিক্সেল আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। একেক ধরনের স্ক্রিন একেক ধরনের গ্রিড ব্যবহার করে। ফলে ছবির তারতম্য লক্ষ করা যায়। পিক্সেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় মেগাপিক্সেল হিসেবে। এক মেগাপিক্সেল ১০ লাখ পিক্সেল মিলে তৈরি হয়। ১. সাধারণ লেন্সে জুমের সাথে সাথে অ্যাপার্চারেরপরিবর্তন করতে হবে: ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা কিনলে তার সাথে সাধারনত একটি কিট লেন্স দেয়া হয়। যা অত্যান্ত কম দামের এবং কিছুটা নিম্ন মানের। তবে ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। যখনই জুমের পরিবর্তন করা হয় তখনই এর অ্যাপার্চার সেটিং পরিবর্তিত হয়ে যায়। তাই প্রয়োজনমত জুম করার পর সেই অনুযায়ী অ্যাপার্চার পরিবর্তন করে নিতে হবে। ২. প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি (uv)ফিল্টার প্রয়োজন: প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি (uv) ফিল্টার রাখা উচিৎ। কেননা, এটি অতিবেগুনী রশ্মির কারণে ছবির ডিস্টরশনের হাত থেকে বাঁচাবে এবং লেন্সকে দাগের হাত থেকে রক্ষা করবে। ইউভি (uv) ফিল্টারের দাম লেন্সের চেয়ে অনেক কম।আর তাই প্রতিটি লেন্সের জন্য ইউভি ফিল্টা রাখাই যায়। ৩. র (RAW) ফাইল ফরম্যাটে ছবি তুলুন: ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরা সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হলে র (RAW) ফরম্যাটে ছবি তুলতে হবে। ডিএসএলআর (DSLR) এই ফরম্যাটে ছবি তোলার সময় ছবিতে যে প্রসেসিং ইফেক্ট যুক্ত হয় তা দূর করার সুযোগ থাকে। যেমন, ক্যামেরা সেটিংয়ে যদি কোনো ত্রুটি থাকে তবে ‘র এডিটর’ (RAW editor) দিয়ে তা দূর কর সম্ভব। ৪. সঠিক ফোকাস নিশ্চিত করা: ছবি তোলার সময় সঠিক ফোকাস সেট করা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ সময়ই যা সম্ভব হয় না এবং ছবি যতটা স্পষ্ট হওয়া উচিৎ ততটা হয় না। বিশেষ করে দ্রুত ছবি তুলতে গেলে এটি সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। প্রথম ছবিটি তুলে জুম ইন করে দেখলেই বোঝা যাবে ফোকাস ঠিক আছে কিনা। ৫. ছবি তুলতে কার্পন্য ছাড়ুন:নিখুঁত ছবি তোলার চাবিকাঠি হচ্ছে প্রচুর ছবি তোলা। আর এর জন্যই ছবি তুলতে কার্পন্য না করাই ভাল। অনেক সময় দেখা যায় লেন্সের মধ্যে দিয়ে তাকানোর পর লক্ষ্যবস্তু প্রত্যাশিত স্থানে থাকে না। এই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রায় আধা ডজন বা তারও বেশী ছবি নেয়া ভাল। যদিও বেশিরভাগই এখান থেকে বাদ পড়ে যাবে তার পরও এতে ভালো ছবি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ৬. তুলনামুলক কমদামী ৫০ মিমি এফ/১.৭ বা এফ/১.৮ লেন্স: যেই ডিএসএলআর (DSLR)-ই কেনা হোক না কেন সবগুলোর জন্যই ৫০ মিমি এফ/১.৭ বা এফ/১.৮ লেন্স রয়েছে। এই লেন্সগুলোর দাম কম, কিন্তু ডেপথ অব ফিল্ড এবং লো-লাইট সেটিংস নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেবে যা অন্য লেন্সে পাওয়া যাবে না। ৭. সব ধরণের সেটিং ও মোড ব্যবহার করে ছবি তুলুন: কোনো সেটিং বা মোড সম্পর্কে না জানা থাকলে প্রত্যেক মোড ও সেটিং ব্যবহার করে কয়েকটি ছবি তুলে পরীক্ষা করা যেতে পারে কোন ছবিটি ভালো লাগে। সেই সেটিং বা মোডটি ভবিষ্যতে আরও ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। ৮. শাটার ও অ্যাপার্চার মোডের ব্যবহার: নতুন ডিজিটাল ক্যমেরা ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যানুয়াল শুটিং মোডের ব্যবহার শেখা একটু কঠিন হতে পারে। এই কাজটি আরও সহজে করার জন্য শাটার প্রায়োরিটি (Shutter Priority) এবং অ্যাপার্চার (Aperture Priority) প্রায়োরিটি মোড ব্যবহার করতে হবে। এই মোড দুটি সেমি-অটো ও সেমি-ম্যানুয়াল মোড, এবং উভয় মোডই ক্যামেরার সর্বোত্তম ব্যবহার শিখতে সাহায্য করবে। ৯. স্বাভাবিক ছবি তোলার জন্য হোয়াইট ব্যালেন্স কাজে লাগান: ডিজিটাল ক্যামেরায় হোয়াইট ব্যালেন্স নামে এক ধরণের সেটিং রয়েছে, যা যেকোনো ধরনের আলোক অবস্থায় ছবিতে স্বাভাবিক রঙ প্রদান করবে। এর মধ্যে অটো এবং ফ্ল্যাশ থেকে শুরু করে ডে-লাইট এবং ক্লাউডি পর্যন্ত সবই রয়েছে। কোনটি ভালো কাজ করে তা দেখার জন্য বিভিন্ন আলোক অবস্থায় এগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ১০. পুরনো ব্যবহার করা ডিএসএলআর কেনার কথা বিবেচনা করা গেতে পারে: প্রথম ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনার সময় টাকা বাঁচানোর ভালো উপায় হচ্ছে কমদামী ক্যামেরা বা হ্রাসকৃত মুল্যের ক্যামেরা ক্রয় করা। এতে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে যা লেন্স ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। যত্ন ও সতর্কতা : বাংলাদেশ যেহেতু জল-কাদা, ধুলা-বালিতে পরিপূর্ণ, তাই এসব থেকে ক্যামেরা দূরে রাখার চেষ্টা করুন। ক্যামেরা কেনার সময় ব্যাগ বা ক্যামেরা রাখার খাপ কিনে নিন, ক্যামেরা বহন করার জন্য। পানি ও তরলজাতীয় পদার্থ ক্যামেরার বড় শক্র। বিশেষ করে সমুদ্রের নোনা পানি। সমুদ্রের পানি থেকে ক্যামেরা সুরক্ষিত করে, তবেই সমুদ্রসৈকতে আনন্দ করুন। কেননা সমুদ্রের পানিতে ক্যামেরা পড়ে গেলে সেটি আর কোনো দিন ঠিক হয় না। ক্যামেরা ব্যবহার করার সময় রিস্ট বেল্ট হাতে বা কাঁধের সাঙ্গে আটকে রাখুন। এতে ক্যামেরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক কম থাকে। প্রয়োজন হলে পানি নিরোধক (ওয়াটার প্রুফ) খাপ ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে এখন অনেক ওয়াটার প্রুফ ক্যামেরাও পাওয়া যায়। এ ক্যামেরা ব্যবহার করার সময় পানিতে পড়ে গেলেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। ঘন কুয়াশার মধ্যে ক্যামেরা ব্যবহার না করা ভালো। এতে কুয়াশার জলকণা ঢুকে ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শীত বা বর্ষার সময় শুষ্ক স্থানে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ক্যামেরা রাখুন। ক্যামেরা ভালো রাখার জন্য সিলিকন বা সিলিকা জেল ব্যবহার করতে পারেন। সিলিকন জেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক সময় সিলিকন জেল ক্যামেরার মধ্যে প্রবেশ করলে ক্ষতি হতে পারে। ক্যামেরা ব্যবহার করার পর ব্যাটারি খুলে রাখা উচিত। ব্যাটারি খুলে ক্যাপসহ ব্যাটারি সংরক্ষণ করে রাখুন। ভ্রমণের সময় ক্যামেরার ব্যাটারি খুলে রাখাই ভালো। ক্যামেরায় ব্যাটারি লাগানো থাকলে যেকোনো সময় ক্যামেরা চালু হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। লক্ষ রাখা উচিত, ব্যাটারি চার্জ করার সময় পূর্ণ চার্জ (ফুল) হয়েছে কি না। ক্যামেরা একটি সংবেদনশীল যন্ত্র। তাই ক্যামেরা এক হাতে ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় ছবি তোলার সময় ক্যামেরায় অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যামেরায় সমস্যা দেখা দিলে নিজে ঠিক করার চেষ্টা না করে ভালো সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া উচিত। ক্যামেরার ছবি যত দ্রুত সম্ভব কম্পিউটার বা অন্য কোনো স্থানে কপি করে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। বর্তমানে বাজারে কমবেশি সব স্টিল ক্যামেরায় ভিডিওচিত্র ধারণের সুবিধা আছে। স্টিল ক্যামেরায় এক টানা বেশি সময়ের ভিডিও ধারণ করা উচিত নয়। স্টিল ক্যামেরায় একনাগাড়ে সবোর্চ্চ পাঁচ থেকে দশ মিনিট রেকর্ড করা ভালো। এর চেয়ে বেশি রেকর্ড করলে ক্যামেরার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ভিডিও রেকর্ড করলে দ্রুত চার্জ ফুরিয়ে যায় এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব অনেক কমে যায়। ক্যামেরা ও এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি যথেষ্ট মূল্যবান হয়ে থাকে। কোনো কারণে এটি অকার্যকর হয়ে গেলে সব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে মেরামত করা সম্ভব নাও হতে পারে। কম্পিউটার অথবা টিভির সঙ্গে ক্যামেরা লাগানোর আগে দেখে নিন ুবিদ্যুৎ সংযোগ ‘আর্থিং’ করা আছে কি না। কারণ হঠাৎ বিদ্যুৎ-প্রবাহের হার কমবেশিহলে ক্যামেরার ক্ষতি হতে পারে। কড়া রোদে ক্যামেরা রাখবেন না। আঘাত, চোট, ঘষা বা ঝাঁকুনি লাগাবেন না। রাসায়নিক পদার্থ বা পানি, ঘাম, তেল, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ক্ষতিকর। মেমোরি কার্ডের জন্য বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র ক্ষতিকর। বিদ্যুতের ভুল প্রবাহ ক্ষতিকর। সঠিকভাবে সমন্বয় করা যায় না এমন যন্ত্রাংশ জোর করে ব্যবহার করবেন না। ভুল পদ্ধতি বা শক্তি প্রয়োগ করে কোনো কাজ করার চেষ্টা করা ভালো না। ক্যামেরা ব্যবহারের সময় বেল্টটি হাতে অথবা গলায় ঝুলিয়ে রাখা উচিত। অযথা ক্যামেরার কোনো অংশ টানাটানি, ঘোরানো বা বারবার খোলা-বন্ধ করা হলে প্যাঁচ কেটে যেতে পারে অথবা গুরুত্বপূর্ণ অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বোতাম আছে এমন কাপড় পরে ক্যামেরা ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে রাখার সময় বোতাম থেকে ক্যামেরার এলসিডি পর্দায় ঘষার দাগ পড়তে পারে। লেন্সে ধুলো পড়লে হাত দিয়ে, ঘষে বা ফুঁ দিয়ে সরানোর চেষ্টা না করে ব্লোয়ার ব্যবহার করুন। ব্লোয়ার না থাকলে নরম কাপড় (যেমন ফ্লানেল) ব্যবহার করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বের হওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে ক্যামেরাটি ব্যাগে ভরে রাখুন। ক্যামেরা খোলা অবস্থায় বের করা হলে লেন্সে বিন্দু বিন্দু পানি জমা হয়। ফলে প্রথমে কিছুটা ঝাপসা মনে হবে এবং পরে লেন্সে স্থায়ী দাগ পড়তে পারে। কম্পিউটারে ছবি কপি করার সময় সরাসরি ক্যামেরা ব্যবহার না করে কার্ড রিডার ব্যবহার করা ভালো। বাইরে কোথাও যাওয়ার আগে ক্যামেরা এবং এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির একটি তালিকা তৈরি করুন। তালিকা দেখে সেগুলো একসঙ্গে রাখলে ভুলে ফেলে আসার আশঙ্কা কম থাকে। মেমোরি কার্ডের ধারণক্ষমতা সীমিত। একসঙ্গে একাধিক ছবি তোলার জন্য রেজুলেশন কমিয়ে ছবি তোলা হলে পরে সেটি কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কার্ডের ধারণক্ষমতা সীমিত। একসঙ্গে একাধিক ছবি তোলার জন্য রেজুলেশন কমিয়ে ছবি তোলা হলে পরে সেটি কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বেশি রেজ্যুলেশনের একটি ছবি প্রয়োজনে রেজুলেশন কমিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কম রেজ্যুলেশনে তোলা কোনো ছবি বেশি রেজুলেশন দিয়ে ব্যবহার করতে চাইলে কখনোই ভালো মান পাওয়া যাবে না। ব্যবহার শেষে ক্যামেরা ব্যাগে ভরে রাখুন। কারণ ক্যামেরা ও এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি মূল্যবান হয়ে থাকে। অযথা বাইরে ফেলে রাখলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ই-মেইলে ছবি পাঠাতে হলে জেপিইজি ফরম্যাটে পাঠানো ভালো। এর কোয়ালিটি ৬ বা মিডিয়াম রাখা উচিত। যেকোনো পরস্থিতিতে ভালো ছবি তুলতে স্বয়ংক্রিয় হোয়াইট ব্যালান্স ব্যবহার করা ভালো। বিশেষ ছবি বা দক্ষ আলোকচিত্রী নিজে হোয়াইট ব্যালান্সের মান ঠিক করে নিতে পারেন। র (আরএডব্লিউ) ফরম্যাটে ছবি তুলে পরে যেকোনো ফরম্যাটে নেওয়া যায়। ছবির আকার ইচ্ছেমতো বাড়ানো বা কমানো যায়। র ছবির ফাইলের আকার বেশ বড় হয়। তাই র ফরম্যাটে ছবি তুলতে বেশি ধারণক্ষমতার মেমোরি কার্ড লাগে। র ফরম্যাটে সৃজনশীল ছবি তোলার জন্য পাওয়া যায় অপার স্বাধীনতা। ছবি সম্পাদনার জন্য জনপ্রিয় সফটওয়্যার হচ্ছে অ্যাডোবি ফটোশপ। র ফরম্যাটে ছবি তুললে তা সম্পাদনার ক্ষেত্রে ফটোশপের সিএস সংস্করণ লাগবে। এ ছাড়া ক্যামেরার সঙ্গে দেওয়া সফটওয়্যার দিয়েও র ছবি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় র মোডের নামের ভিন্নতা রয়েছে। প্রতিটি ব্রাউজারে খোলে এমন আরেকটি ফরম্যাট হচ্ছে পিএনজি। ছবি সংরক্ষণের আরেকটি ফরম্যাট হচ্ছে জিআইএফ। এই ফরম্যাটে তোলা ছবি পরে অ্যানিমেশনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেকোনো ছবি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আছে বিট ম্যাপ ইমেজ (BMP) ফরম্যাট। ছবি সম্পাদনার ক্ষেত্রে প্রতিটি সফটওয়্যারের নিজস্ব ফরম্যাট রয়েছে। যেকোনো ছবি না খুললে কিংবা কোনো ফরম্যাট না দেখালে তাতে নামের পাশে (.JPEG) লিখে দিলে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুলবে। ফিক্সড ফোকাসের ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয় উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে ভালো ছবি তোলা যায়
ক্যামেরা কেনার আগে ও পরে যে তথ্য গুলো আপনার জেনে রাখা দরকার
Item Reviewed: ক্যামেরা কেনার আগে ও পরে যে তথ্য গুলো আপনার জেনে রাখা দরকার 9 out of 10 based on 10 ratings. 9 user reviews.

Post a Comment

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.

Note: Only a member of this blog may post a comment.