0

পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পণ্য সামগ্রীর বিক্রয় বাড়াতে এক ধরনের অলিখিত প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে নিজেদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে। তাদের বিক্রয় কৌশল নির্ভর করছে এমন কিছুর উপর যা ক্রেতাকে কোন না কোনভাবে আকৃষ্ট করে। আর এই আকৃষ্ট করার মাধ্যমই হচ্ছে বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন আজ শিল্প হিসেবে পরিগণিত। আর এই বিজ্ঞাপনকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষনীয় করে তুলতে যারা নিজেকে উপস্থাপিত করেন তারাই ‘মডেল’।
মডেলের সুত্রপাতঃ ষোড়শ শতকে ইতালীয় মোদেল্লা শব্দ থেকে ফরাসী ভাষার মোদেল শব্দের উৎপত্তি যা কিনা লাতিন শব্দে মোদুলুস। মোদুলুস শব্দের অর্থ মাপ, আর এই মোদুলুসই পরে ইংরেজী স্থান পায় মডেল রূপে।
শিল্প বিল্পবের পর পণ্যের উৎপাদন যত বাড়লো ততই বাড়লো সে সব পণ্যের বিক্রির প্রতিযোগিতা। যার জন্যে পণ্যের প্রস্তুতকারীদের ব্যাপক প্রচারে নামতে হলো তখন টি.ভি ছিলোনা। সিনেমাও মাত্র জমে উঠেছে, তাই পণ্যের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে গোড়ার দিকে সংবাদপত্র আর সাময়িক পত্রগুলোই ব্যবহার করা হতো। আর থাকতো রাস্তায় রাস্তায় হোডিং বা বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। পরে পণ্যের প্রচার শুরু হলো সিনেমা হলে স্লাইড বা স্থির চিত্রের মাধ্যমে আর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ফিল্ম ক্রমশঃ প্রচারের এক বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে শুরু করলো। মাত্র এক দশকে স্বাধীনতার উত্তর অর্থাৎ ৮০’র দশকে আমাদের বাংলাদেশেও পণ্যের বিজ্ঞাপনের কার্যকরী এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে টেলিভিশন। আমাদের দেশে এখন টেলিভিশনে একটি বিজ্ঞাপন দেখিয়ে একজন বিজ্ঞাপন দাতা বিশাল সংখ্যক লোককে তার পণ্যের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে সক্ষম না হলেও মোটামুটি সংখ্যক লোককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে একথা স্বীকার করতেই হবে।
পণ্য দ্রব্যের বিজ্ঞাপন মানেই পর্দায় ভেসে উঠবে মোহিনী হাসি, সুন্দরভাবে চলাফেরা ও নজরকাড়া সোন্দর্য যা মডেলের পক্ষেই সম্ভব। বিজ্ঞাপন নির্মাতারা যে শুধু কোম্পানীর পণ্যের মডেলকে টেলিভিশনেই উপস্থাপনা করছেন তা নয়, এই সব মডেলরা রাস্তায় হোর্ডিং বা সাই বোর্ড অডিও ভিস্যুয়াল এবং প্রিন্ট মিডিয়াতেও উপস্থাপিত হচ্ছেন। বর্তমানে মডেলরা র‌্যাম্পেও কাজ করছেন। একটি সময় ছিলো যখন মডেল ব্যবহার করতেন শুধু চিত্রকররাই দেশ-বিদেশের বড় বড় শিল্পীদের আঁকা অসংখ্য ছবিতে এরকম কতো মডেল শিল্পীর ক্যানভাসের বুকে অমর হয়ে আছেন। তবে সেই সব যুগে শিল্পীর সামনে মডেল হয়ে বসতো পতিতারা। সাধারণ ঘরের মেয়েদের খুব একটা পাওয়া যেতোনা। কারণ মেয়েদের আব্র“, পোষাক আশাকের ব্যাপারে তাদের শালীনতাবোধ তখন অন্যরকম ছিলো। শিল্পীর চাহিদা মতো বেশবাসে ছবি আঁকাবার জন্য বসতে ঘরের মেয়েরা রাজী হতেন না। ফলে সমাজের নিম্নস্তরের অভাবী মেয়েরা আর বরবনিতা মেয়েরা সাধারণতঃ মডেল হতে রাজী হতেন। স্বাধীনতার পূর্বকালে এখানে বিজ্ঞাপন ব্যবসা বা শিল্পী এতোটা বিকশিত না থাকায়, বেশীরভাগ পণ্য সামগ্রীর বিজ্ঞাপনেই থাকতেন পশ্চিম পাকিস্তানের সুন্দরী মেডেলরা। কারণ বিজ্ঞাপন শিল্পটি তখন ছিলো করাচী লাহোর কেন্দ্রিক। কালভেদে কদাচিৎ দু একটি বাঙ্গালী মুখ ঝলসে উঠতো। তবে নব্বইয়ের দশকের সূচনালগ্নে মডেলিং গোটা দেশে দারুন ক্রেজ তৈরী করে।
যেহেতু  এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে মডেল তৈরীর প্রশিক্ষণশালা বোম্বের মত প্রভাবে গড়ে ওঠেনি সেহেতু প্রাথমিক প্রস্তুুতি নিতে হবে ঘরে বসেই। প্রতিদিন টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বিজ্ঞাপন চিত্রগুলো দেখতে হবে। আপনি নিজেকে যতই সুন্দর বা সুন্দরী ভাবুন না কেন প্রফেশনাল এটিচ্যুডে মডেল হতে হলে এ্যাকশন এক্সপ্রেশন দিতে না জানলে তার কোন মূল্যই নেই। সৌন্দর্যের সঙ্গে মেধার সমন্বয়ে তৈরী হয় একজন সফল মডেল। একজন ভাল বিজ্ঞাপন নির্মাতা কোম্পানীর পণ্যের স্ত্রীপ্ট অনুযায়ী যে কাউকে যে কোন বয়সে পণ্যের মডেল হিসাবে নিতে পারেন। হতে পারে সে শিশু থেকে বুড়োবুড়ি পর্যন্ত। সৌন্দর্যের সঙ্গে মেধার সমন্বয়ে তৈরী হয় একজন সফল মডেল। পণ্যের মডেল হবার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ফ্যাশন শোর মডেল হতে পারেন। এ ধরনের শোর পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে মহরা দেওয়া হয়। এই মহরা নিজেকে তৈরী করতে অনেকখানি সহায়তা করে। অন্যদিকে প্রাথমিক পরিচিতি তৈরীতে সহায়ক হয় ফ্যাশন মডেলিং এতে ষ্টীল ক্যামেরার সামনে এক্সপ্রেশন দেবার ক্ষমতা বাড়ে। তখন ফ্যাশন মডেল হবার সুযোগ অনেক প্রসারিত হয়। যেহেতু ছবি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজেই ফটোশেসনের সময় নিজেকে সাবলীল এবং জড়তা মুক্ত হতে হবে। যতটা পারা যায় ছবিতে যেন এক্সপ্রেশন থাকে। দক্ষ ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তোলা উচিত। দক্ষ ফটোগ্রাফারের সঙ্গে থাকেন দক্ষ মেকআপম্যান, দক্ষ লাইাটম্যান এদের সমন্বয়েই একটি সুন্দর ষ্টীল ছবি বের হয়ে আসে। মনে রাখতে হবে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি পণ্যের মডেল হবার পথে প্রথম ভাগ্যনির্ধারণী পরীক্ষা।
 
সুন্দরীঃ মানুষের দৈহিক সৌন্দর্যের মধ্যে নারী সৌন্দর্য আদর্শ হিসেবে নিরূপিত। নারীই জগতিক সৌন্দর্যের শেষ্ঠ উপকরণ এবং মাধুর্যের প্রতীক। সৌন্দর্য মূল্যের অবধারণে ইন্দ্রিয়ের একটি বড় ভূমিকা আছে। সৌন্দর্য শাস্ত্রে নারীর দৈহিক সৌন্দর্য সম্পর্কে যা বলা হয়েছে এতোকাল তার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে (১) যা ইন্দ্রিয়কে আকর্ষন করে; (২) জৈবিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবিত করে; (৩) মায়া সৃষ্টি করে; (৪) আকাঙ্খিত সামাজিক ফলদান করে; (৫) ভাবে ব্যঞ্জনার যোগান দেয়; (৬) পরিতৃপ্তি ও আনন্দের সঞ্চার করে; (৭) আবেগের জাগরন ঘটায়; (৮) বিশেষ ধরনের আবেগ বর্ধন করে; (৯) আন্ত সহানুভূতির জন্ম দেয় এবং (১০) যৌন আগ্রহে বিভিন্ন রকমের উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। সুন্দরের স্ত্রী লিঙ্গ নির্দেশ করে সুন্দরী সুন্দরের শারিরীক সৌন্দর্য উদ্ভাসিত হয় তার দেহ গড়নের সুষম বিন্যাস, লাবণ্য, কটাক্ষ গতিভঙ্গিমা উচ্চারন ইত্যাদির মাধ্যমে সাধারণত সুন্দরীর জন্যে ফর্সা হওয়া একটি বিশেষ শর্ত। যতক্ষন না নারীর দৈহিক সৌন্দর্যকে অনুমোদন দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত নারীর কিছুই সুন্দর হতে পারে না।
বিউটি কনটেস্টঃ  বিশ্বব্যাপী সন্দর বা সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রচলন রয়েছে অনেকদিন থেকে। আমাদের দেশ ও এখন পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা পত্রিকা প্রতি বছর বিভিন্ন সময়ে সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। শুরু হয়েছে সুন্দরী প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা যেতে পারে। কোম্পানীর পণ্যের মডেল হবার ক্ষেত্রে নির্বাচিতরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। নির্মাতারাও আস্থা পান এদের দিয়ে ভাল বিজ্ঞাপন করার। আধুনিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা নামে অনুষ্ঠান চালু হয় বিশ শতকের চল্লিশের দশকের দিকে। এই দশকে মিস ইংল্যান্ড, মিস ইউকে মিস ইউরোপ ইত্যাদি শিরোনামে সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রচলন হয়। এই প্রতিযোগিতাকেই আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে আসা হয় ১৯৫১ সালে। বৃটেনের জাতীয় উৎসব উপলক্ষে এ বছর জনৈক এরিক মারলি ‘মিস ওয়াল্ড কনেটেষ্ট’ নাম দিয়ে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা আহ্বান করেন। অবশ্য বিশ শতকের শেষ দশকের মধ্যে সুন্দরী প্রতিযোগিতা চালু হয়েছে সমাজতান্ত্রিক দেশসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে। সুন্দরীর সার্বিক উপস্থিতি একদিকে যেমন শিক্ষা, ফ্যাশন সচেতনতা, সাধারণ জ্ঞান, উপস্থিত বুদ্ধি, আইকিউ থাকা প্রয়োজন, তেমনি তার বিশেষ অঙ্গ যেমন- স্তন, উরু, নিতম্ব, হিপ, চোখ, ঠোট, নাক ইত্যাদিও প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এছাড়া প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে আসছে নগ্ন সুন্দরী, ফটোসন্দুরী, চিত্রসন্দুরী। প্রতিযোগিতায় উদ্যোক্তা পত্রিকার পক্ষ থেকে পাঠকের কাছে ভোট চাওয়া হয় এই বলে যে, এইসব সুন্দরীর কোন প্রত্যঙ্গ আপনার ভালোলাগে। অতঃপর ফলাফল প্রকাশ করে লেখা হচ্ছে অমুক নায়িকার নিতম্বে পড়েছে অতো ভোট, অমুক সুন্দরীর বক্ষ পেয়েছে অতোটি ইত্যাদি। এছাড়া সৌন্দর্য রুচির ভিত্তিতে লাবণ্য ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের শোভা পরীক্ষাও বিচার্য বিষয়। সুকন্যা, শুভাষিনী, লাস্যময়ী, স্বতস্ফূর্ত, সপ্রতিভ হওয়া ও সুন্দরীর প্লাস পয়েন্ট বটে।

শরীরের বাঁধন অনুযায়ী দেহকে প্রধানত তিনটি কাঠামোতে ভাগ করা হয়। হালকা নমনীয় শরীর, পেশীবহুল শক্তপোক্ত শরীরর এবং গোলগাল শরীর। যারা হালকা নমনীয় শরীরের অধিকারিনী তাদের দেখতে বেশ ভাল দেখায়। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় যে গড়াপড়তা পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা হয় তা হলোঃ ক) উচ্চতা- কমপক্ষে ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি খ) বয়স- ১৭-২৫ বছর গ) ওজন- ১২২-১৩১পাঃ ঘ) বুকের মাপ-৩৬”-৩৭”, ঙ) নিতম্ব- ৩৫”-৩৬”। এ সব কিছুর সাথে মুখশ্রী, ত্বকের পেলবতা, সেক্স আপীল, চোখ সব মিলিয়ে একজন মেয়েকে মিস্ ইউনিভাসে দুর্লভ খ্যাতি দেয়া হয়।
একজন মডেল নিজেকে গুছিয়ে ও প্রস্তুত রাখতে হয়। বিশেষ করে মডেলের ফিগার যখন হবে আকর্ষনীয়

কখন বলা যাবে ফিগার আকর্ষনীয়ঃ
১। বুক-হিপের মাপের সমান। ২। কোমর-বুকের মাপের চেয়ে ১০ ইঞ্চি কম। ৩। হিপ-বুকের মাপের সমান। ৪। উরু-কোমরের মাপের চেয়ে ৬ ইঞ্চি কম। ৫। ঊর্ধ্ববাহু-কব্জির মাপের দ্বিগুন। নিজের বুক-কোমর হিপের মাপ অস্বাভাবিক হলে শুধুমাত্র সেই অংশের ব্যায়াম করে ফিগারকে আকর্ষনীয় করে তোলা যেতে পারে।

মডেলের শিক্ষা, ফ্যাশন সচেতনতা, সাধারণ জ্ঞান, উপস্থিত বুদ্ধি, আইকিউ এবং স্মার্টনেস যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন তার দেহের সৌন্দর্যতাও। তাই দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত যতœ নেওয়া প্রয়োজন সৌন্দর্য রক্ষার্থে।

বিভিন্ন মডেলিং-এর বিভিন্ন ধরন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

হাই ফ্যাশন মডেলিং:এ ধরনের মডেলিং সাধারণত ফ্যাশন শো আর ফ্যাশন প্রচারণায় প্রয়োজন হয়। বড় বড় ফ্যাশন হাউজ তাদের নতুন পোশাকের প্রদর্শন-এর জন্য ফ্যাশন শো-তে বা অন্যান্য মাধ্যমে পণ্যের প্রচারণার জন্য হাইফ্যাশন মডেলদের ব্যবহার করে। আর এই কাজেরসম্মানীও বেশ চড়া।

এডিটোরিয়াল মডেলিং:এডিটোরিয়াল মডেল বিশেষ কোন প্রকাশনা বা ফ্যাশন, স্বাস্থ্য,লাইফস্টাইল বিষয়ক ম্যাগাজিনগুলোর জন্য কাজ করে। এই ধরনের মডেলিং-এ ফ্যাশন ডিজাইনার ও এডিটরগণ মডেলদের ফটো আরও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে। এই কাজগুলো মডেলদের সুখ্যাতি আর পোর্টফলিও ভারি করে।

ক্যাটালগ মডেলিং:নির্দিষ্ট কোন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পোশাকের/পণ্যের মডেলিং করাটাই ক্যাটালগ মডেলিং। এতে অনেক বেশি প্রতিযোগীতার মাধ্যমে মডেলকে সুযোগ পেতে হয়। কারণ, এর প্রসার অনেক বেশি আর মডেল-এর নাম, যশ, খ্যাতিও হয় অনেক। তবে অনেক ছোট কোম্পানি তাদের ছোট্ট মার্কেটের জন্যও ক্যাটলগ মডেলদের নিয়োগ করে।

রানওয়ে মডেলিং:এই ধরনের মডেল রানওয়েতে ক্যাটওয়াক করেন কোন ডিজাইনার বা স্টোরের কাপড় পরে। এই্যফাশন শো ঘরে বা বাইরে যেকোনো জায়গায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। নতুন মডেলদের জন্য কাজ শেখা ও নিজেকে তুল ধরার এটা একটা দারুণ উপায়।

সুইমস্যুট মডেলিং:এই ধরনের মডেলদের অসাধারণ দেহ গড়ন হয়। হাই ফ্যাশন আর এডিটোরিয়াল মডেলরা এই ধরনের মডেলিং করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক ডিজাইনারই তাদের কালেকশনে বা ফ্যাশন শো-তে সুইমস্যুট রাখেন। অনেক ম্যাগাজিনও প্রচুর সুইমস্যুট মডেলদের উপস্থাপন করে।

লঞ্জারি মডেল:লঞ্জারি মডেল অবশ্যই দেখতে আবেদনময়ী হবে। হাইফ্যাশন আর এডিটোরিয়াল মডেলও এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। সাধারণত অন্তর্বাস প্রস্তুতকারক ফ্যাশনহাউজ-ই এইধরনের মডেলদের দিয়ে তাদের কালেকশনের প্রদর্শনী, ফটো শুট ইত্যাদি করে থাকে

গ্ল্যামার মডেলিং:গ্ল্যামার মডেলিং-এ সাধারণত মডেলকে যৌন আবেদনময়ী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়- শরীরকে পোষাকে আবৃত রেখে বা সম্পূর্ণ নগ্ন করে। তবে এটা পর্নোগ্রাফী নয়। বিশেষ ম্যুড বা পরিস্থিতিকে বোঝানোর জন্য এই মডেলিং-এর প্রয়োজন পড়ে। এধরনের মডেলিং-এর সফলতায় চাই শরীরের সঠিক গঠন ও আকৃতি। ফলে, এমনও হয় যে, গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিতে মডেলরা সফলতার জন্য তাদের স্তন পর্যন্ত ইমপ্লান্ট করে।

প্রিন্ট মডেলিং:প্রিন্ট মডেলরা প্রচুর বিস্তৃতি লাভ করে। এরা সাধারণত সব ধরনের প্রিন্টিং মাধ্যমের জন্য কাজ করে, যেমন- বিলবোর্ড, সব ধরনের প্রিন্ট মিডিয়া এ্যাড ইত্যাদি।

প্রমোশনাল মডেলিং/ট্রেড শো মডেলিং:এই ধরনের মডেলদের কাজের স্থান হলো বিভিন্ন সমাবর্তন/সভা বা সম্মেলন এবং বাণিজ্য মেলা। অতিথিদের অভ্যর্থনা বা কোন স্টলে দাঁড়িয়ে আগন্তুকদের সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবার বিষয়ে অবগত করানো এবং তা ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করা। আমাদের এখানে সাধারণত এদের ব্র্যান্ড প্রোমোটার বা বিপি বলে।

প্লাস সাইজ মডেলিং:সবাই আপনাকে মোটা বললেও কোন দুঃখ নেবেন না। কারণ, মোটা বা প্লাস সাইজ মডেলদের একটা বড় চাহিদা বিশ্বব্যাপী আছে। প্লাস সাইজ মডেলরা সমাজেরএকটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সাধারণত ১এক্সএল সাইজের উপরে যেকোনো মডেলকে প্লাস সাইজ মডেল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। প্লাজ সাইজ পোশাকের ফ্যাশন, ক্যাটালগ বা রানওয়ে মডেল হিসাবে এদের প্রচুর কাজ রয়েছে।

ক্যারেক্টার মডেলিং/রিয়েল পিপল মডেলিং/কমার্শিয়াল মডেলিং:এই ধরনের মডেলিং-এর নির্দিষ্ট কোন প্রকার সংজ্ঞা হয় না। এখানে প্রয়োজনীয় চরিত্রটিই মুখ্য। বিশেষতঃ টিভি বিজ্ঞাপনের কথাই যদি ধরি তাহলে বিজ্ঞাপন ভিডিওটির চরিত্রের প্রয়োজনে গ্রাম্য বা শহুরে, কালো বা ফর্সা, লম্বা বা খাটো যা-ই হোক না কেন চরিত্রটি হতে হবে যথার্থ। এই চরিত্রটি/গুলোর মডেলরা বাণিজ্যিক প্রচারণার স্বার্থে প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচুর কাজ করে।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী অন্যান্য মডেলিং-এর চাহিদাও আছে। যেমন খাটো মানুষদের ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইলের জন্য পেটিট মডেলিং, শিশুদের ফোকাস করে চাইল্ড মডেলিং, টিন এজারদের ফোকাস করে টিন মডেলিং, শরীরের বিশেষ অঙ্গে পোশাক বা এক্সেসরিজ ফোকাস করে বডি পার্ট মডেলিং, বয়স্কদের ফোকাস করে ম্যাচিওর মডেলিং ইত্যাদি ধরনের মডেলরাও ব্যাপক পেশাদারী কাজ করেন। তাই যারা মডেল হিসাবে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদেরকে নিজেদের জন্য মানানসই ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ধরন বেছে নিয়ে বা বিশেষজ্ঞ’র পরামর্শ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন।

ফটো শ্যুট সফল করতে হলে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:
ক)সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া। সময়ানুবর্তিতা প্রত্যেক ফটো শ্যুটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়খ) যদি ফটো শ্যুটের সময় কেউ সাথে না থাকে তবে অবশ্যই পরিবারের লোকদের জানাতে হবে যে কোথায় ফটো শ্যুট হচ্ছে গ)বিভিন্ন ফ্যাশন স্টাইল প্রতিফলিত করতে যতটা সম্ভব ভিন্ন ভ্নি পোশাক সাথে আনতে হবে
ঘ)নিজের মেকআপ আর্টিস্ট নিয়ে আসা সবচেয়ে ভাল, যদিও স্টুডিওতে একজন মেকআপ আর্টিস্ট থাকেই
ঙ)ফটোগ্রাফারের অন্য ক্লায়েন্ট থাকলে তাদের সাথে পরিচিত হলে সুযোগের গন্ডিটাও বেড়ে যেতে পারে
চ)ফটো শ্যুটের প্রয়োজনে ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হচ্ছে এমন কোন বিষয়ের জন্য মানসিক চাপ না নিয়ে সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নিলেই সুন্দর ফটো সম্ভব হবে
ছ)প্রত্যেক ফটো শ্যুটে অবশ্যই একটা লিখিত চুক্তি থাকতে হবে যে ফটোগুলো কোথায় কিভাবে ব্যবহৃত হবে
জ)কোন ফটো শ্যুটে লম্বা ভ্রমণের ব্যাপার থাকলে শ্যুটের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে যাতে ফটো প্রাণোচ্ছল এবং সতেজ দেখায়
ঝ)ফটো শ্যুট প্রথম-ই হোক আর ১০০ তম-ই হোক সব সময় পেশাদারী আচরণ বজায় রাখতে হবে। মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে ফটোগ্রাফারগণ পরস্পরের সাথে খুবই ভাল সম্পর্ক রাখেন এবং মডেলদের সম্পর্কে ভাল ধারণাখুবই জরুরী একটা বিষয়– পোর্টফলিও সব সময় সর্বশেষ ফ্যাশন এবং পোশাক পরিচ্ছদ দিয়ে হাল নাগাদ রাখতে হবে। কারণ অনেকদিন আগের কোন একটা ফটো আপনার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেবে না
ঞ)ফটোগ্রাফারদের সাথে যতটা সম্ভব যোগাযোগ রাখতে হবে। তাকে মডেলের ভাবনা চিন্তা, পরিকল্পনা,সাজেশন সবকিছুই জানাতে হবে
ট)প্রত্যেক ফটো শ্যুটের শেষে যাচাই করে নিন কোন ফটোগুলো সেরা। শুধু ফটোগ্রাফার-ই নয়, আপনার বন্ধু, পরিবার, এজেন্ট বা ইন্ডাস্ট্রির যেকোনো অভিজ্ঞ’রকাছথেকে জানুন কোন ফটোগুলো সেরা হয়েছে।


কিছু টিপস:১)- নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে মনোযোগী হতে হবে।২) পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিনিয়তই ভাবতে হবে নিজেকে নতুন কী করে উপস্থাপন করা যায়।৩) কমিটমেন্টের জায়গাগুলো ঠিক রাখতে হবে এবং সময় মেইনটেইন করে চলতে হবে।৪)থাকতে হবে নিবেদন, অধ্যাবসায় এবং গন্তব্য।

no image
Item Reviewed: মডেল 9 out of 10 based on 10 ratings. 9 user reviews.
Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

Post a Comment

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.

Note: Only a member of this blog may post a comment.